সাভার প্রতিনিধি | বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ঢাকার সাভারে বায়না দলিলের মাধ্যমে কেনা জমির সীমানা নির্ধারণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লোকজনের বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুল মান্নান নামে এক ব্যবসায়ী।
শনিবার সাভার মডেল থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী। জিডিতে বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক অশোক বাবু এবং তার প্রতিনিধি কিশোর বাবুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আব্দুল মান্নান সাভার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসিন্দা।
জিডির বিবরণ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাভার উপজেলার গেদ্দা মৌজায় বি.আর.এস. দাগ নম্বর ৫৫৬-এর ৩২ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ জমি গত ২ আগস্ট বায়না দলিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মালিকের ওয়ারিশদের কাছ থেকে কেনেন আব্দুল মান্নান। গত ১৬ আগস্ট সকালে স্থানীয় সার্ভেয়ার ও জমির পূর্বের মালিকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ওই জমিতে সীমানা নির্ধারণ করতে যান।
আব্দুল মান্নানের অভিযোগ, সীমানা মাপজোখের একপর্যায়ে তিনি দেখতে পান যে তার কেনা জমির একটি বড় অংশ বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দখলে রয়েছে। এ নিয়ে তিনি কারখানার ম্যানেজার ও মালিকের প্রতিনিধি কিশোর বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। তখন তাকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানের মালিক অশোক বাবু দেশের বাইরে রয়েছেন এবং তিনি দেশে ফিরলে বসে বিষয়টির সমাধান করে দেওয়া হবে।
আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, "কিশোর বাবুকে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন দিলে অন্য একজন ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, কিশোর বাবু নিচে আছেন। পরে ওই ব্যক্তি আমাকে জানান, জায়গা কিশোর বাবুর নয়, মালিক অশোক বাবু। মালিক দেশের বাইরে এবং তাদের কাছে মালিকের কোনো নম্বর নেই। এরপর বিভিন্নভাবে আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।"
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আরও অভিযোগ করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে তিনি বিক্রেতাদের সঙ্গে নিয়ে আবারও ওই জমিতে যান। তখন কিশোর বাবু তাকে জানান যে, মালিক অশোক বাবু কোনো জমি দেবেন না এবং তার সঙ্গে কোনো বৈঠকও করবেন না। এসময় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দ্রুত ওই জায়গা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়।
আব্দুল মান্নান দাবি করেন, "কিশোর বাবু আমাকে বলেন, 'প্রাণ নিয়ে বাঁচতে চাইলে এখান থেকে চলে যান। তা না হলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী দিয়ে মেরে জীবন্ত কবর দিয়ে দেব।' ভবিষ্যতে আমি যেন ওই জমির কাছে না যাই, সে বিষয়েও হুমকি দেওয়া হয়েছে।"
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম জানান, সাধারণ ডায়েরিটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে কিশোর বাবুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
আরও জানতে চোখ রাখুন...