মো.রিয়াজুল সোহাগ,নিউজ ডেস্কঃ
বর্তমান সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে শিক্ষাখাতে ডিজিটাল সেবার যে বিস্তৃতি ঘটেছে, তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। সনাতন পাঠদান পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা এখন শুধু শহরেই নয়, পৌঁছে গেছে গ্রাম পর্যায়েও। ডিজিটাল কনটেন্ট, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার পরিসর এখন হাতের মুঠোয়।
দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। এসব ক্লাসরুমে পাঠ্যবইয়ের জটিল বিষয়গুলো অ্যানিমেশন, অডিও ও ভিডিও উপস্থাপনার মাধ্যমে সহজ করে তুলে ধরছেন শিক্ষকরা। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠে আগ্রহ বাড়ছে, পাশাপাশি তাদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতারও বিকাশ ঘটছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল বিপ্লবে বড় ভূমিকা রাখছে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ।
মুক্তপাঠ দেশের অন্যতম বৃহৎ ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাভিত্তিক নানা কোর্স করতে পারছেন।
কিশোর বাতায়ন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
করোনা মহামারির সময় চালু হওয়া ঘরে বসে শিখি উদ্যোগ সংসদ টিভির মাধ্যমে ঘরে ঘরে পাঠদান পৌঁছে দেয়, যা বর্তমানে অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বিস্তৃত হয়েছে।
এক সময় ভর্তির ফর্ম সংগ্রহ বা পরীক্ষার ফল জানতে শিক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় এখন সেই চিত্র বদলে গেছে।
উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া এখন পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক। বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষার দিনেই এসএমএস কিংবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও মার্কশিট ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রয়োজনীয় একাডেমিক ডকুমেন্ট সংগ্রহ ও যাচাই করতে পারছে।
ডিজিটাল সেবার ফলে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নও সহজ হয়েছে। আগে প্রশিক্ষণের জন্য সশরীরে দূরবর্তী স্থানে যেতে হলেও এখন অনলাইনেই বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, নতুন কারিকুলাম ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কোর্স গ্রহণ করছেন শিক্ষকরা। এতে শিক্ষাদান পদ্ধতিতে আধুনিকতা ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটছে।
তবে শিক্ষাখাতে ডিজিটাল সেবার অগ্রযাত্রার মাঝেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। দেশের সব এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ এবং আধুনিক ডিভাইসের সহজলভ্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সম্প্রসারণ ও স্বল্পমূল্যে স্মার্ট ডিভাইস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এই বাধাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, শিক্ষাখাতে ডিজিটাল সেবার বিস্তার বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, আধুনিক ও ভবিষ্যৎমুখী করে তুলছে—যা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার পথে এক শক্তিশালী ভিত্তি।
আরও পড়ুন. সংবাদটি শেয়ার করুন.........