
মো.রিয়াজুল সোহাগ,নিউজ ডেস্ক:
রক্তঝরা জুলাইয়ের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর স্মৃতি আজ আবার ফিরে এলো আদালতের এজলাসে। রাজধানীর রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৮ জনকে হত্যার দায়ে অবশেষে বিচার শুরু হলো। আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিজিবির সাবেক দুই শীর্ষ কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করেছেন।
শুনানির সময় আদালতের পরিবেশ ছিল থমথমে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যখন সেদিনের সেই পৈশাচিক হামলার বিবরণ দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত অনেকের চোখই ভিজে ওঠে। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেদিনের সেই হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
আদালতের আদেশে যাদের বিরুদ্ধে আজ চার্জশিট গঠন করা হলো, তারা হলেন— বিজিবির তৎকালীন একজন হেভিওয়েট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, রামপুরা এলাকার তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা এবং ওই জোনের একজন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা।
মামলার নথিপত্র বলছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে রামপুরা ও বনশ্রী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। আন্দোলন দমাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতি-তৎপরতায় গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় ২৮টি তাজা প্রাণ। ছাত্র থেকে শুরু করে রিকশাচালক— কেউই রেহাই পায়নি সেই বুলেট থেকে। ওই ঘটনার পর থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচারের আশায় প্রহর গুনছিল।
আদালত আগামী মাস থেকে এই মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি বলেন, "আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষী রয়েছে। আমরা অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।"
দীর্ঘ দেড় বছর পর বিচারের এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় রামপুরার শহীদ পরিবারগুলোর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। এখন সবার চোখ আদালতের পরবর্তী রায়ের দিকে।