
স্টাফ রিপোর্টার,
মোঃ রেজাউল হক, কুড়িগ্রামঃ-
রাজারহাট আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজে টাকা না দিলে, মিলবে না পরিক্ষার নম্বর। প্রতিটি ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য দিতে হবে দুই ২শত টাকা। এভাবে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বরের বিনিময়ে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার "রাজারহাট আদর্শ মহিলা ডিগ্রী" কলেজের প্রভাষক আশরাফুল ইসলাম ও ল্যাব এসিস্ট্যান্ট হিরম্বর রায় এইচএসসি'র ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর কম দেয়ার ভয় দেখিয়ে, গত ২৬ আগস্ট ২০২৫ ইং মঙ্গলবার দুপুর ১.০০ টার দিকে প্রতি শিক্ষার্থীর নিকট ২শত থেকে ৩শত টাকা করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
এসময় সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের এক শিক্ষার্থীর নিকট প্রথমে ৪শত টাকা চাইলে তার কাছে টাকা নেই জানার পর, ঔ শিক্ষার্থীরকে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দিতে বলেন, অন্যথায় নম্বর কম দেয়ার হুমকি দেন। এসময় ঔ শিক্ষার্থী কৌশলে টাকা দাবির ভিডিও ধারণ করেন। সেই একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং প্রচুর আলোরন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানায়।
উক্ত বিষয়ে সেই শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চাইলে সে গণমাধ্যমকে বলেন,
আমি যখন ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে যাই, তখন ওই কলেজের শিক্ষকেরা আমার কাছ থেকে প্রতি সাবজেক্ট এর জন্য ২শত টাকা করে চায়। কিন্তু তখন আমার সাথে টাকা না থাকলে আমি তাদের রিকুয়েষ্ট করি আমার কাছে টাকা নেই। তখন উনারা আমাকে একটি বিকাশ নাম্বার দেয় ( ০১৮৯১-১৫৬১৫৩) এবং বাসা গিয়ে টাকা দিতে বলে। অন্যথায় আমাকে কম নাম্বার দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন।
পরবর্তীতে তার স্বামী (সাংবাদিক মামুন চৌধুরী) কলেজে গিয়ে টাকা নেয়ার বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহ আলম এর সঙ্গে কথা বললে অভিযুক্ত ব্যক্তিদয় তা অস্বীকার করেন। কিন্তু ভিডিও তে টাকা দাবির উপযুক্ত প্রমাণ রয়েছে। এরপর ঐ শিক্ষার্থীর স্বামী চলে আসলে, সেই শিক্ষার্থীকে বলেন, তোমার স্বামী কে, পুলিশ দিয়ে জেল হাজতে পাঠাবেন বলে হুমকি দেন।
এবিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল ইমরান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয় টি আমি জানি না, তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখবো।