
সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত’—এই অঙ্গীকারে পালিত হচ্ছে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা|
দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে শ্রমিকরা অর্জন করেছিলেন দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের অধিকার। সেই ঐতিহাসিক সংগ্রামের ১৪০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল। পহেলা মে, বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের সংহতির দিন ‘মহান মে দিবস’। বাংলাদেশে দিবসটি এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ একই দিনে পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস-২০২৬’।
এ বছর দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত”।
কেন ও কবে থেকে এই দিবস?
মে দিবসের সূচনা হয়েছিল ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে। তখন শ্রমিকদের কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ছিল না; তাদের অমানবিক পরিবেশে দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হতো। ৮ ঘণ্টা শ্রমের দাবিতে ১৮৮৬ সালের পহেলা মে শিকাগোর হে-মার্কেট চত্বরে শ্রমিকরা সমবেত হন। ৩রা মে পুলিশ সেই সমাবেশে গুলি চালালে বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিহত হন এবং পরে প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে অনেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক কংগ্রেসে শিকাগোর সেই শহীদদের স্মরণে পহেলা মে-কে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে এটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মে দিবসকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন এবং এদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।
জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস
শ্রমিকদের কেবল অধিকার নয়, তাদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সাল থেকে ২৮শে এপ্রিল দিবসটি পালন শুরু করে। তবে এ বছর মে দিবসের সঙ্গে সমন্বয় করে শ্রমিকদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে প্রধান্য দিয়ে যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। মূলত ২০১৩ সালের ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি নীতিমালা’ অনুযায়ী শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই দিবসটির যাত্রা শুরু হয়।
আগামীকালের কর্মসূচি
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামীকাল রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্প খাতের কারখানাকে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করার কথা রয়েছে। এছাড়া সারাদেশে শ্রমিক সংগঠনগুলো রক্তদান কর্মসূচি, মিলাদ মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করবে।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, ১৪০ বছর আগে যে ৮ ঘণ্টা শ্রমের দাবি উঠেছিল, তার অনেক কিছু অর্জিত হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে শোভন মজুরি ও নিরাপদ কর্মস্থলের চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। এই মে দিবসেই আসুক সেই মুক্তির নব প্রভাত।
আরও জানতে চোখ রাখুন...