
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে এক অনন্য নজির স্থাপন করে সম্পূর্ণ সৌরশক্তিচালিত প্রথম বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশন "অ্যাস্ট্রায়াস" (Astraeus) তৈরির মেগা প্রজেক্টের ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর একটি যৌথ দল। যৌথ এই প্রকল্পে শীর্ষ গবেষক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নাসার (NASA) সাবেক সিনিয়র অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট ড. মার্কাস ভেন এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) প্রধান শক্তি বিশেষজ্ঞ ড. হেলেনা রড্রিগেজ।
প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ এই স্পেস স্টেশনের প্রথম পর্যায় বা প্রাথমিক মডিউলটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (Low Earth Orbit) স্থাপন করা হবে।
উন্নত সোলার প্যানেল প্রযুক্তি ও কার্যপ্রণালী প্রথাগত মহাকাশ স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ ও শক্তি উৎপাদনের জন্য যে জটিল ব্যবস্থা থাকে, অ্যাস্ট্রায়াসে সেটি পুরোপুরি দূর করা হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে নবপ্রজন্মের অতি-নমনীয় ও হালকা ওজনের 'পারোভস্কাইট-সিলিকন' সোলার সেল।
খরচ ও পরিবেশগত প্রভাব গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, মহাকাশ স্টেশনে জ্বালানি রকেট পাঠানোর খরচ সবচেয়ে বেশি। জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা শূন্যে নামিয়ে আনায় মহাকাশ গবেষণার সার্বিক পরিচালন খরচ প্রায় ৪০% থেকে ৪৫% পর্যন্ত কমে আসবে। পাশাপাশি এটি হবে সম্পূর্ণ কার্বন-নিঃসরণমুক্ত প্রথম টেকসই মহাকাশ মিশন।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়ে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট মো. রিয়াজুল সোহাগ এই ঘটনাকে কেবল বিজ্ঞানের সাফল্য হিসেবে না দেখে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতির এক নতুন মোড় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী:
১. বাণিজ্যিক মহাকাশ যুগের সূচনা: এতদিন মহাকাশ স্টেশন পরিচালনা ছিল নির্দিষ্ট কয়েকটি ধনী দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত নিয়ন্ত্রণাধীন। সম্পূর্ণ সৌরচালিত এই বাণিজ্যিক স্পেস স্টেশন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, মহাকাশ পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণাকে বেসরকারি খাতের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করবে।
২. জ্বালানি নির্ভরতা থেকে মুক্তি: পৃথিবীর বুকে যেমন নবায়নযোগ্য শক্তির বিপ্লব চলছে, তেমনি মহাকাশেও জীবাশ্ম বা ঐতিহ্যবাহী রকেট ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমানোর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহ বা চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব বসতি স্থাপনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
৩. প্রযুক্তিগত সমতা ও বৈশ্বিক সুযোগ: খরচ ৪০% কমে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের উদীয়মান দেশগুলোর তরুণ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য মহাকাশ গবেষণায় অংশ নেওয়ার যে আর্থিক বাধা ছিল, তা অনেকটাই দূর হবে।
সাংবাদিক রিয়াজুল সোহাগের মতে, "এটি কেবল একটি প্রযুক্তির বড় সাফল্য নয়, বরং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশকে সাধারণ মানুষের কাজের আওতায় নিয়ে আসার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।"
আরও জানতে চোখ রাখুন...