
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বর্তমান বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আর কোনো সাধারণ অনুসারী রাষ্ট্র নয়, বরং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর জন্য এক অনিবার্য কৌশলগত অংশীদার। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ওয়াশিংটন কিংবা মস্কো—উভয় পক্ষই এখন ঢাকার অবস্থান ও সিদ্ধান্তকে সমীহ করে চলতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু ঠিক কোন কারণে রাশিয়া এবং আমেরিকার মতো পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের কথা মানতে বাধ্য হচ্ছে?
বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত বাংলাদেশ বর্তমানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের (IPS) সফল বাস্তবায়নে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, এই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য রুখতে এবং নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে রাশিয়ার কাছেও বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণ ও এশীয় অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডগত অবস্থানকে কোনো পরাশক্তিই এখন উপেক্ষা করতে পারছে না।
বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশের অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উদীয়মান বাজার বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা বদলে দিয়েছে। ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের এই বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং দ্রুত বর্ধনশীল মধ্যবিত্ত শ্রেণী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় আকর্ষণ। ফলে, উন্নত দেশগুলো কেবল ভূ-রাজনীতি নয়, বরং নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থেই বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক গভীর হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বাংলাদেশ রাশিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিজস্ব অর্থনৈতিক কূটনীতির পরিচয় দিয়েছে। একই সময়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার এবং তৈরি পোশাক শিল্পের বড় অংশীদার। দুই পরাশক্তির চরম দ্বন্দ্বের মাঝেও বাংলাদেশ 'সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়'—এই পররাষ্ট্রনীতিতে সফলভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে।
কোনো নির্দিষ্ট ব্লকে বা সামরিক জোটে সরাসরি অংশ না নিয়ে বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। পরাশক্তিগুলোর কোনো এক পক্ষের চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে, স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই দৃঢ় অবস্থানই ঢাকাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র মর্যাদায় আসীন করেছে। যার ফলে, নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখতে রাশিয়া কিংবা আমেরিকা—উভয় পক্ষই বাংলাদেশের দাবি ও সিদ্ধান্তকে মূল্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে।
আরও জানতে সাথে থাকুন...