‘টিভি সেন্টার মাদকবিরোধী ঐক্য’ পেজের নেপথ্যে সম্পত্তি গ্রাসের হীন চক্রান্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি, আইনি জালে জড়াচ্ছে পুরো সিন্ডিকেট
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী:
বাস্তবে তিনি কোনো মাদক ব্যবসায়ী নন, বিলাসবহুল জীবনও নেই তার। দিনরাত রেস্টুরেন্টে প্লেট-বাটি ধুয়ে আর টেবিলে খাবার পরিবেশন করে (বয়ের কাজ) কোনো রকমে টেনেটুনে চলে তার জীবিকা। অথচ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের অনন্তপুর এলাকার সেই সাধারণ খেটে খাওয়া যুবক পারভেজকেই রাতারাতি বানিয়ে দেওয়া হলো এলাকার ‘মাদক সম্রাট’! স্থানীয় বড় বড় গডফাদার ও মাদক ডিলারদের আড়াল করতে এবং পারভেজের পৈতৃক সম্পত্তি গ্রাস করতে মাদকবিরোধী আন্দোলনের নামে এই নির্মম চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এই জঘন্য চক্রান্ত, ব্ল্যাকমেইলিং এবং মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এবার আইনি লড়াইয়ে নামছে ভুক্তভোগী পরিবার। চক্রটির বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। ডিজিটাল অপরাধ ও পৈতৃক সম্পত্তি দখলের হুমকির সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ইতিমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
**আসল ডিলাররা অধরা, চুনোপুঁটি শিকারের খেলা:**
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় যারা প্রকৃতপক্ষে বড় বড় ডিলার এবং শীর্ষস্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী—যেমন **মোশাররফ হোসেন মঞ্জু**সহ অন্যান্য প্রভাবশালী মাদক কারবারি—তাদের নাম ও অপরাধের কথা এই তথাকথিত মাদকবিরোধী পেজে কখনোই প্রচার করা হয় না। অজ্ঞাত কারণে তারা সবসময়ই রয়ে যান লাইমলাইটের বাইরে। উল্টো যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে এবং স্থানীয় ‘মুন্না’ নামের এক ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত।

**"টিভি সেন্টার মাদকবিরোধী ঐক্য"** নামক একটি ফেসবুক পেজটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, আসল অপরাধীদের সেফ এক্সিট দিতেই অনন্তপুর ধনগাজী হাজী বাড়ির মরহুম আঃ মালেক-এর ছেলে পারভেজকে বলির পাঁঠা বানানোর এই নোংরা খেলা খেলছে চক্রটি।
**বাবার মৃত্যুর পর এতিম যুবকের সম্পত্তি গ্রাসের নীল নকশা:**
অনুসন্ধানে জানা যায়, পারভেজের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো মাদকের প্রমাণ বা রেকর্ড দূর কি বাত, এলাকায় তিনি একজন সাধারণ ও শান্ত প্রকৃতির খেটে খাওয়া মানুষ হিসেবেই পরিচিত। মূলত একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার পৈতৃক সম্পত্তি গ্রাস করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছে। গত দুই মাস আগে পারভেজের বাবা আঃ মালেক মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর পর পারভেজ যখন মানসিকভাবে পুরোপুরি বিপর্যস্ত ও অভিভাবকহীন, ঠিক তখন থেকেই চক্রটি তার ওপর অপবাদের এই মরণকামড় বসায়। চক্রটির মূল উদ্দেশ্য হলো, একের পর এক মিথ্যা অপবাদ ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে এই রেস্তোরাঁ কর্মীকে এলাকাছাড়া করা, যাতে তারা সহজে তার বিপুল সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারে।
এরই ধারাবাহিকতায় বিগত কয়েক মাস আগেও চক্রটি পারভেজকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তার সম্পত্তি দখল করার অপচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। সেই চক্রান্তে ব্যর্থ হয়ে এখন বাবার মৃত্যুর পর তাকে পুরোপুরি একা পেয়ে নতুন করে ‘মাদক সম্রাট’ সাজাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা। প্রায়ই তাকে পুলিশি অভিযানের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি গত ২৫ তারিখেও তারা পারভেজের নামে একটি সাজানো মাদক মামলার চক্রান্তের জাল বুনেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
**নেটিজেনদের তোপ: 'অভিযান নাকি দاলালি?'**
এদিকে "টিভি সেন্টার মাদকবিরোধী ঐক্য" পেজটিতে এই বিতর্কিত পোস্ট দেওয়ার পর সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছে পেজ কর্তৃপক্ষ। সচেতন নাগরিকরা সরাসরি পেজের ইনবক্সে ও কমেন্টে তাদের এই দ্বিচারিতা ও আসল অপরাধীদের আড়াল করার নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সম্প্রতি পেজটির চ্যাটবক্সের একটি চাঞ্চল্যকর স্ক্রিনশট ফাঁস হয়েছে, যেখানে ক্ষুব্ধ এক ব্যক্তি সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লিখেছেন— **"ভাইয়া আপনি কি মাদক বিরোধী অভিযান চালাচ্ছেন নাকি মাদক কারবারির দاলালি করছেন?"
**থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন, কঠোর ব্যবস্থার দাবি:**
এই সংঘবদ্ধ চক্রের ব্ল্যাকমেইলিং ও নোংরা ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী পারভেজ বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরিত্র হনন এবং পৈতৃক সম্পত্তি গ্রাস করার উদ্দেশ্যে অপরাধমূলক হুমকির (Criminal Intimidation) অভিযোগে মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার নথিতে পেজ পরিচালনাকারী মুন্নাসহ নেপথ্যের মদদদাতাদের আসামি করা হচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদক নির্মূলের ভেক ধরে যারা মোশাররফ হোসেন মঞ্জুর মতো বড় বড় ডিলারদের দালেরি করছে এবং একজন সদ্য পিতৃহারা রেস্টুরেন্ট কর্মীর পৈতৃক সম্পত্তি গ্রাস করার হীন উদ্দেশ্যে লিপ্ত রয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক। এই নোংরা চক্রান্তের বিরুদ্ধে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আরও জানতে চোখ রাখুন...