
নিজস্ব প্রতিবেদক|
বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২৪ জুন ২০২৬ (বুধবার) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আর্থিক খাতের শ্বেতপত্র নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।
সংসদ অধিবেশনে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, "গত ১৫ বছরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাংক লুটপাট এবং মেগা প্রকল্পের আড়ালে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য এবং প্রাথমিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, এই পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার।"
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমদানি-রপ্তানিতে মূল্য কারসাজি (ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিং) এবং হুন্ডির মাধ্যমে এই বিশাল অংকের অর্থ মূলত কানাডা, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং দুবাইসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী ও সুবিধাভোগী ব্যক্তি দেশের ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংস করে এই অর্থ দেশের বাইরে নিয়ে গেছে, যার ফলে আজ দেশের অর্থনীতিকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি এবং টাস্কফোর্স এই অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট উৎস ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করেছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিদেশি সরকারের সাথে আইনি প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই লুণ্ঠিত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ আদায় এবং ডলারের বাজারের অস্থিরতা কাটিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া এই অর্থ পাচারকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
মন্তব্য করুন...