শহিদুল ইসলাম, সিলেট জেলা প্রতিনিধি:
বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও নামী-দামি প্রতিষ্ঠানে পড়ার সৌভাগ্য হলেও নিজের শেকড়কে ভোলেননি ব্রিটেনের প্রথিতযশা আইনজীবী ও লেখক ব্যারিস্টার নাজির আহমদ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাহাড়া দুবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “এই বিদ্যাপীঠই ছিল আমার শিক্ষার হাতেখড়ি। এখানে কাটানো পাঁচটি বছর আমার জীবনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।”

সত্তর দশকে এই স্কুলের ছাত্র হিসেবে কৃতিত্বের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেছিলেন ব্যারিস্টার নাজির আহমদ। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এডভোকেট, ব্রিটেনের নিউহ্যাম বারার টানা তিনবারের সাবেক ডেপুটি স্পীকার এবং বিরল সম্মাননা ‘ফ্রিম্যান অব দ্য সিটি অব লন্ডন’ খেতাবপ্রাপ্ত। মঙ্গলবার দুপুরে দীর্ঘ বছর পর নিজ স্কুলে পৌঁছালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
প্রধান শিক্ষক করুণা কান্ত দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বলেন, “জীবনে অনেক বড় বড় সম্মাননা ও ক্রেস্ট পেয়েছি, নিজ হাতেও অনেককে দিয়েছি। কিন্তু নিজের শৈশবের স্কুল থেকে আজ যে সম্মাননা পেলাম, তার আনন্দ ও স্বাদ সত্যিই আলাদা। আমি আজ ভীষণভাবে আবেগাপ্লুত।”
বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যে তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমাদের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। জীবনের সফলতার জন্য কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মানসিকতা থাকতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “একজন মানুষের সাফল্যে সবাই খুশি হয় না, কেবল মা-বাবা এবং শিক্ষকরাই প্রকৃত গর্ববোধ করেন। এমনকি ছাত্র যখন শিক্ষককে ছাড়িয়ে যায়, শিক্ষক তখন সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হন।”
বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে। মোবাইল আসক্তি যেন তোমাদের বিপথগামী না করে, সেদিকে অভিভাবক ও শিক্ষকদের কড়া নজর রাখতে হবে। পড়াশোনা, খেলাধুলা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে ভারসাম্য বজায় রাখাই সফলতার মূল চাবিকাঠি।”
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান শিক্ষক করুণা কান্ত দাশ তাকে পুরো স্কুল ঘুরিয়ে দেখান। ব্যারিস্টার নাজির আহমদ তার শৈশবের ক্লাসরুমগুলো দেখে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। এসময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতেও স্কুলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার নাজির আহমদের এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো দুবাগ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও এই মিলনমেলায় অংশ নেন।
আরও পড়ুন......