কৃষি ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের কৃষি খাতে চারা উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে। দেশের বিভিন্ন জেলায় এখন অত্যাধুনিক নার্সারি ও টিস্যু কালচার ল্যাবে উন্নতমানের সবজি, ফলদ ও বনজ গাছের চারা উৎপাদন হচ্ছে, যা কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, টিস্যু কালচার, হাইব্রিড বীজ, অটো-স্প্রিংকলার এবং পলিহাউস বা নেটহাউস প্রযুক্তির কারণে সারা বছর মানসম্মত চারা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে টমেটো, ক্যাপসিকাম, স্ট্রবেরি, কলা, আলু ও পেঁপেসহ বেশ কিছু ফসলের চারা দেশে এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উৎপাদিত হচ্ছে।
কৃষকের খরচ কমছে, উৎপাদন বাড়ছে
উন্নতমানের চারা ব্যবহারের ফলে রোগবালাই কমে যায় এবং ফলন ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচও কমছে। একই সঙ্গে বাজারে এসব চারার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামের নার্সারি মালিকদের আয়ের নতুন পথ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কৃষি উদ্যোক্তা ফেসবুক, অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছে চারা সরবরাহ করছেন। বিশেষ করে ই-কমার্সভিত্তিক কৃষি স্টার্টআপগুলো কৃষক ও নার্সারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করছে, যা বাজার ব্যবস্থাকে আরও সহজ করছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় এবং কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি/ব্রি) বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আধুনিক চারা উৎপাদন প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পলিহাউস নির্মাণে ভর্তুকি, মান নিয়ন্ত্রণ ও রোগমুক্ত চারা বিতরণ কার্যক্রমও চলছে।
আধুনিক চারা উৎপাদন পদ্ধতি শিখে বর্তমানে অনেক তরুণ-তরুণী গ্রামে ফিরে এসে নার্সারি ব্যবসা করছেন। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহারও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।