বিডিনিউজ24, ঢাকা|
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী শিখনের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সপ্তাহে ছয় দিন পাঠদান কার্যক্রম চালুর বিষয়টি এখন সরকারের বিবেচনাধীন।
তবে প্রথাগতভাবে ছয় দিনই সশরীরে উপস্থিত থাকার পরিবর্তে সরকার 'ব্লেন্ডেড লার্নিং' বা মিশ্র শিক্ষা পদ্ধতির ওপর জোর দিচ্ছে। অর্থাৎ সপ্তাহের নির্দিষ্ট কয়েক দিন সরাসরি শ্রেণিকক্ষে এবং বাকি দিনগুলোতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
কেন এই নতুন পরিকল্পনা?
গতকাল রাজধানী ঢাকায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি বলেন, মূলত শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম সময়মতো শেষ করা এবং পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বিশেষ করে করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে শিক্ষা খাতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে ডিজিটাল অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।প্রস্তাবিত মডেলে যা থাকছে:
* পাঠদানের সময়সীমা বৃদ্ধি: বর্তমান ছুটির প্রথা সংশোধন করে সপ্তাহে ছয় দিন শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা।
* অনলাইন ও অফলাইনের সমন্বয়: কয়েক দিন সরাসরি স্কুলে এবং বাকি সময় বাড়িতে বসে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষা গ্রহণ।
* প্রযুক্তিনির্ভরতা: ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ
যদিও এই পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে সরকার সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন—শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করেই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও কিছু বাস্তবমুখী চ্যালেঞ্জের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, শহরকেন্দ্রিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস সহজ হলেও দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ এবং স্মার্ট ডিভাইসের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও মনে করছেন যে, এই পদ্ধতি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে যাতায়াতের ধকল কমবে এবং শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তিবান্ধব শিক্ষা গ্রহণে আরও দক্ষ হয়ে উঠবে।
আরও জানতে চোখ রাখুন...