জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) থেকে শুরু করে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও প্রশাসনে ভারপ্রাপ্ত সচিবের প্রচলন ছিল। বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ বিগত সব সরকারের আমলেই নতুন কাউকে সচিব করার শুরুতে সাধারণত 'ভারপ্রাপ্ত সচিব' হিসেবে পদায়ন করা হতো। তবে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর সে সময়কার প্রভাবশালী কিছু আমলা এই ব্যবস্থাকে অবমাননাকর বলে সমালোচনা করেন। এই প্রেক্ষাপটে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ সরকার ভারপ্রাপ্ত সচিব পদায়নের এই বিধানটি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে কোনো সচিব অনুপস্থিত থাকলে অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের রুটিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর গত ২৫ মে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাকে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করার মাধ্যমে এই প্রথাটি নতুন করে আলোচনায় আসে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, "আগে ভারপ্রাপ্ত সচিবের পর পূর্ণাঙ্গ সচিব করা হতো। মাঝখানে অনেক দিন সেই আদেশ হয়নি। সেই নিয়ম বহাল ছিল, কিন্তু চর্চা ছিল না। আমি হয়তো সেই ব্যক্তি, যাকে দিয়ে আবার ভারপ্রাপ্ত সচিবের পদায়ন শুরু হলো।"**যে কারণে ফিরছে এই ব্যবস্থা:**
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সচিব পদে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ পদোন্নতি দেওয়ার পরিবর্তে শুরুতে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কর্মক্ষমতা ও যোগ্যতা মূল্যায়ন করা গেলে প্রশাসনে বিতর্ক অনেকটাই কমবে। এর ফলে সরকার যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একবার কাউকে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিলে পরে তাঁর যোগ্যতা বা কর্মদক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলেও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, শুরুতে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে কিছু সময় দায়িত্ব পালন করালে ওই কর্মকর্তার কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক নেতৃত্ব, সততা এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা রয়েছে কিনা—তা নিখুঁতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়।
আরও জানতে চোখ রাখুন...