নিজস্বপ্রতিনিধি,নোয়াখালী |
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি সরকারি খালের ওপর অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে পরিচালিত এই অভিযানে জরিমানার পাশাপাশি অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনার একাংশ ভেঙে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে এবং সরেজমিনে জানা গেছে, বেগমগঞ্জের ৫নং ছয়ানী ইউনিয়নের লক্ষ্মণপুর হাসান টোলা এলাকায় চন্দ্রগঞ্জ-ছয়ানী খালের ওপর স্থানীয় এক ব্যক্তি মসজিদের বর্ধিত অংশ এবং একটি সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করেছিলেন। সরকারি জলধারা দখল করে এই ধরনের নির্মাণকাজের ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
অভিযানে যা ঘটেছে
মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বেগমগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাদাত হোসেন। অভিযানকালে আফাজ টেইলারের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় খালের ওপর নির্মিত অবৈধ অংশটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
খালের জায়গায় সেপটিক ট্যাংক স্থাপনের দায়ে অভিযুক্ত নূরনবীকে নগদ ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের একটি দল।
প্রশাসনের বক্তব্য:অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাদাত হোসেন জানান, সরকারি খাল বা জলাশয় দখল করে যেকোনো ধরণের স্থাপনা নির্মাণ দেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিনি আরও বলেন, "জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা জরুরি। অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরণের উচ্ছেদ অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদী ও খাল দখলমুক্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরণের ছোটখাটো দখলদারিত্ব বন্ধ না হলে দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা এবং পরিবেশগত বিপর্যয় মারাত্মক রূপ নিতে পারে। একইসাথে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৫,০০০ টাকা জরিমানাও করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—পরিবেশ রক্ষা এবং পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে এ ধরণের অভিযান আগামীতেও চলবে।
আরও জানতে চোখ রাখুন...