
সরকারি কর্মচারীদের আশায় গুড়েবালি
নিজস্ব প্রতিবেদক |
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন— নবম পে-স্কেল। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে যখন নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ চাকুরিজীবীদের, ঠিক তখনই তাদের সেই রঙিন স্বপ্নে অনেকটা জল ঢেলে দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। জাতীয় বেতন কমিশন তাদের সুপারিশমালা জমা দিলেও সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এখনই বাস্তবায়ন হচ্ছে না বহু প্রতীক্ষিত এই বেতন কাঠামো। ফলে বড় অংকের বেতন বৃদ্ধির যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখন সুদূর পরাহত।
পরবর্তী সরকারের কাঁধে দায়:
সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়নের মতো বড় ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাদের নয়। বরং এই বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে চাকুরিজীবীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা আর চাপা ক্ষোভ। অনেকের প্রশ্ন— দ্রব্যমূল্যের আগুনে পুড়তে থাকা কর্মচারীরা কি তবে আরও কয়েক বছর এভাবেই খুঁড়িয়ে চলবেন?
কী ছিল সেই প্রস্তাবনায়?
জাতীয় বেতন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কিন্তু কর্মচারীদের জন্য বড় ধরনের সুখবর ছিল। সেখানে ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই বেতন আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছিল:
র্বনিম্ন বেতন: ২০,০০০ টাকা (২০তম গ্রেড)।
সর্বোচ্চ বেতন: ১,৬০,০০০ টাকা (১ম গ্রেড)।
বৃদ্ধির হার: গ্রেডভেদে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব ছিল।
ক্ষোভ কেন বাড়ছে?
সরকারি কর্মচারীদের দাবি, ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। মুদ্রাস্ফীতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন সরকার যদি এই দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ঠেলে দেয়, তবে তা বাস্তবায়ন হতে আরও ২ থেকে ৩ বছর লেগে যেতে পারে। এই দীর্ঘ সময় সাধারণ কর্মচারীরা কীভাবে টিকে থাকবে, তা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রবল অসন্তোষ দানা বাঁধছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা বললেও মাঠ পর্যায়ের বিশাল এই জনবলকে সন্তুষ্ট না রাখতে পারলে প্রশাসনিক গতিশীলতা ব্যাহত হতে পারে। এখন সবার চোখ পরবর্তী নির্বাচনের দিকে— কবে আসবে নতুন সরকার আর কবেই বা মিলবে সেই কাঙ্ক্ষিত বেতন বৃদ্ধি।
আরও জানতে চোখ রাখুন...