
স্টাফ রিপোর্টার|
সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি আর কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য থামাতে দেশজুড়ে হার্ডলাইনে যৌথ বাহিনী। গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ অভিযানে ৩২৫ জন অপরাধীকে বগলদাবা করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্রের বড় চালান। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল—কোথাও রেহাই পাচ্ছে না অপরাধীরা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই চিরুনি অভিযানে রীতিমতো থরথর কাঁপছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদাররা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ৯ই জানুয়ারি থেকে ১৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনের অভিযানের এই চাঞ্চল্যকর খতিয়ান প্রকাশ করেছে।
আইএসপিআর জানায়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের সেনাসদস্যরা দিনরাত মাঠে কাজ করছেন। মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনীর জিওসি (General Officer Commanding) এবং এরিয়া কমান্ডারদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে এই যৌথ কমান্ডো স্টাইল অভিযান পরিচালিত হয়। বিশেষ করে ঢাকার লজিস্টিক এরিয়া কমান্ডারের অধীনে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে চালানো অভিযানে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাত দিনের এই অভিযানে অপরাধীদের গোপন আস্তানা থেকে জব্দ করা হয়েছে ২৮টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। শুধু তাই নয়, উদ্ধার হয়েছে ৪১৯ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের তাজা গোলাবারুদ এবং ১৪টি শক্তিশালী ককটেল। এ সময় বিপুল পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও মরণনেশা মাদকও জব্দ করেন সেনাসদস্যরা। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে কুখ্যাত ডাকাত দলের সদস্য, চোরাকারবারি এবং পাড়া-মহল্লায় ত্রাস সৃষ্টিকারী কিশোর গ্যাংয়ের ক্যাডাররা।
অভিযানের বিষয়ে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, শুধু রাজপথ নয়, শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া ষড়যন্ত্রকারীদের রুখতেও সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দেখাচ্ছে। সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের শান্ত রাখা এবং উৎপাদনশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাসদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন।
আইএসপিআর-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অ্যাকশন অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনি প্রক্রিয়ায় থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে বা অপরাধের খবর জানলে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে দ্রুত সংবাদ দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন, মতামত দিন...