প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ২:০৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ড্রয়িংরুম থেকে গ্রামের উঠান পর্যন্ত জিয়ার আদর্শ পৌঁছে দেবেন জিসপ
মো. রিয়াজুল সোহাগ, নিউজ ডেস্ক |
নির্বাচনের ময়দান মানেই কেবল জনসভা বা মাইকের গর্জন নয়; বরং এর নেপথ্যে থাকে অন্দরমহলের সূক্ষ্ম সব হিসাব-নিকাশ।রাজনৈতিক বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও থেমে নেই জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ (জিসপ)। বরং দুঃসময়কে ডিঙিয়ে এবার তারা মাঠে নামিয়েছে এক শক্তিশালী 'প্রচার ও গণসংযোগ উপ-কমিটি'। গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুমোদিত এই ২৯ সদস্যের প্রতিটি নামের পেছনেই লুকিয়ে আছে একেকটি বিশেষ কৌশল। কেবল পোস্টার আর ব্যানারের সনাতন পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে, জিসপ-এর এই 'কমান্ডো বাহিনী' এবার আধুনিক প্রযুক্তি আর পুরনো ঘরানার মাঠ-রাজনীতির এক অদ্ভুত মিশেল ঘটাতে যাচ্ছে।জেলা থেকে গ্রাম: 'ডোর টু ডোর' কানেক্টিভিটি, কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সদস্য সচিব খলিল উল্লাহ চৌধুরী সাকিবের নেতৃত্বে এই টিমকে কয়েকটি শক্তিশালী জোনে ভাগ করা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য একটাই—শহরের ড্রয়িংরুম থেকে গ্রামের উঠান পর্যন্ত জিয়ার আদর্শ পৌঁছে দেওয়া।
মহিলা উইংয়ের বিশেষ মিশনে: যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমা সিকদার ও ফারহানা আক্তার মুন্নীদের কাঁধে দেওয়া হয়েছে নারী ভোটারদের কেন্দ্র মুখী করা ভোট আমাদের নাগরিক অধিকার এ সিদ্ধান্ত আমাকে আপনাকে নিতে হবে এটা আল্লাহ তাড়ালার পবিত্র আমানত তা বুঝানোর গুরুভার।নারীদের সম্পৃক্ত করে প্রতিটি ঘরে ঘরে ধানের শীষের ৩১দফার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
ডা. আতাউল্লাহ বিপ্লব ও একঝাঁক মেধাবী আইনজীবীর সমন্বয়ে গঠিত এই টিমটি সচেতন মহলে সরকারের বিগত দিনগুলোর 'ব্যর্থতা' ও জিসপ-এর আগামীর 'ভিশন' তুলে ধরবে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় 'সাইবার যুদ্ধ' ও গেরিলা কৌশল কমিটির শাহজালাল উদ্দিন লিটন ও মো. ফিরোজ আলমদের মতো তরুণ তুর্কিদের কাঁধে রয়েছে আইটি ও সোশ্যাল মিডিয়া সামলানোর বিশাল চ্যালেঞ্জ। জিসপ-এর পরিকল্পনা কেবল ফেসবুক পোস্টেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি জনসভার লাইভ স্ট্রিমিংয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের সমস্যা নিয়ে ছোট ছোট ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করেন।
নেপথ্যের কারিগর ও রাজপথের ভ্যানগার্ড
২৯ সদস্যের এই বিশাল বহরকে নেপথ্য থেকে গাইড করছেন জিসপ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি এম. গিয়াস উদ্দিন খোকন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসেন। তাদের স্বাক্ষরিত এই কমিটি মূলত নির্বাচনের 'ভ্যানগার্ড' বা অগ্রবর্তী দল হিসেবে কাজ করবে। কমিটির অন্যতম সদস্য লোকমান হোসেন রাজু, মাছুমা আক্তার ও মাইন উদ্দিন মোস্তফাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরাসরি মাঠের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার। কেন্দ্র থেকে আসা গোপন বার্তাগুলো নিমিষেই তৃণমূলের শেষ প্রান্তে পৌঁছে দিতে তারা একনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।
ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মঈনুল রোডের সেই কান্নার স্মৃতি আর বিগত বছরগুলোর জমে থাকা আবেগই জিসপ-এর প্রচারণার প্রধান অস্ত্র। ২৯ জনের এই টিম কেবল মাইকিং করবে না, বরং রাজপথের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে মানুষের মনের পালস বোঝার চেষ্টা করবে। ইতিহাসের পাতায় জিসপ-এর এই ডিজিটাল প্রচারণা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে এই ২৯ জন কুশীলবের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক দক্ষতার ওপর।
আরও পড়ুন, জোট বেঁধে ভোট দেবো জবাবদিহি সরকার পাবো সুন্দর একটা দে-শ গড়বো....
2026