
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৫ সালের আগস্ট সংখ্যায় প্রকাশিত একটি লেখায় জনৈক লেখক লিখেছেন, ‘মুজিবের আদর্শ ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনাই করা যায় না। আমরা তার সৈনিক, তার কথাই আমাদের শপথ।’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি প্রকাশনায় ‘শপথ’ ও ‘সৈনিক’ হওয়ার এমন রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি এমন প্রকাশ্য আনুগত্য কি বিধিসম্মত?
এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, তাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা অসত্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়া বড় ধরনের অপরাধ হলেও, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তা ধামাচাপা পড়ে ছিল বলে দাবি করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, একদিকে বাহিনীর মুখপত্রে তাকে ‘মহাকাব্যের পরিণতি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে তার ব্যক্তিগত আইনি স্বচ্ছতা নিয়েই ছিল প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কাজ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া, কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের বন্দনা করা নয়। কিন্তু ডিটেকটিভ-এর পাতায় পাতায় যেভাবে প্রশস্তি গাওয়া হয়েছে, তাতে বাহিনীর পেশাদার কাঠামোর চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ই মুখ্য হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের এই চর্চা এবং হলফনামার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে গোপনীয়তা—সব মিলিয়ে তৎকালীন সরকারের স্বচ্ছতা এখন কাঠগড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এই ‘অতিভক্তি’ আর আইনি অসঙ্গতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।