
স্টাফ রিপোর্টার |
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক ‘নারী অবমাননাকর’ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও উত্তেজনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠগুলো। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ঝাড়ু মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা। কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা জামায়াত আমিরের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জামায়াত আমিরের বক্তব্যের প্রতিবাদে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করার সময় টিএসসি এলাকায় ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি হওয়ার উপক্রম হয়। এসময় উভয় পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেওয়া হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতারা বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে নারীর অগ্রযাত্রাকে রুখে দেওয়ার এই মধ্যযুগীয় মানসিকতা আমরা মেনে নেব না।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আজ দুপুরে এক নজিরবিহীন প্রতিবাদ দেখা গেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত একটি ঝাড়ু মিছিল পুরো ক্যাম্পাস ও ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারী ছাত্রীরা বলেন, “নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে জামায়াত আমির প্রমাণ করেছেন তারা এখনো অন্ধকার যুগে বাস করছেন। এই ধরনের বক্তব্য সমাজের প্রগতির অন্তরায় এবং চরম অবমাননাকর।”
একই ইস্যুতে আজ উত্তাল ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসও। বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে শিক্ষার্থীরা সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি অবিলম্বে এই নারীবিদ্বেষী বক্তব্য প্রত্যাহার করা না হয়, তবে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্যাম্পাসের এই উত্তেজনা রাজনৈতিক রূপ নিতে পারে। একদিকে জামায়াত-শিবির তাদের নেতার বক্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত ধর্মীয় ব্যাখ্যা’ হিসেবে জায়েজ করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে প্রগতিশীল শক্তিগুলো একে নারীর অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আজ ঢাবি ও জবি ক্যাম্পাসে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
আরও জানতে চোখ রাখুন...