নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর করতেই হবে: ইউনূস
মো.রিয়াজুল সোহাগ,নিউজ ডেস্ক |
নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নির্বাচন, গণভোট, নিরাপত্তা এবং প্রচারণা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
বৈঠকে সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবে দলটি। একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাদের প্রচারণা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে দুই ধরনের ক্যাম্পেইন সমান্তরালভাবে চলবে।
নির্বাচন সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জামায়াত নেতারা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন,
‘যেভাবেই হোক আমাদের ভালো নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে যেকোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত আমাদের জানাবেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনবো এবং সরকারের করণীয় থাকলে ব্যবস্থা নেবো।’
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। জানুয়ারির মধ্যেই এসব ক্যামেরা ইনস্টল সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থাও থাকবে। একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে এবং সব ফুটেজ রেকর্ড সংরক্ষণ করা হবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে প্রফেসর ইউনূস বলেন,
‘আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হয়েছি— এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বই হচ্ছে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।’
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
‘এবারের ভোট ও গণভোট সফল করতেই হবে। যে যাই বলুক না কেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। এটি কোনো গোজামিলের নির্বাচন হবে না। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয়, সে দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দল— সবার।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, নির্বাচনের সময় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত বিরোধ নিরসনে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্বাচন উপলক্ষে একটি হটলাইন নম্বর চালু থাকবে, যেখানে যেকোনো অভিযোগ গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, নির্বাচন শেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। ছবিঃ সংগৃহিত
আরও পড়ুন...
