নিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে সরকারি মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র দখল করে মাদক-জুয়া ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বানসা মুন্সী বাড়ীর রশিদ মেম্বারের ছেলে নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সরকারি জমি দখল করে বিল্ডিং নির্মাণ ও সরকারী স্বাস্থ্যকর্মী হয়ে বেসরকারী হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, নাছির উদ্দিন পেশায় একজন সরকারি চাকরিজীবী। সরকারি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী তিনি । তবে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হলেও এলাকায় প্রভাব খাটাতেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হিসেবে। বর্তমানে পরিচয় দেন বিএনপির নেতা হিসেবে। চাকুরির ক্ষেত্রেও তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীতা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ করেছে। ইতিপূর্বে কয়েকবার নিয়মবহির্ভূত কর্মকান্ডের জন্য তাকে শোকজ করেছে কর্তৃপক্ষ। আওয়ামী সরকারের আমলে ৫ নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নাছির উদ্দিন। সেই সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশ্বের সরকারি খাল দখল করেছেন। সেই জমি ভরাট করে বিল্ডিং তুলেছেন।

সূত্রের দেওয়া তথ্য বলছে, ৫ই আগষ্ট আওয়ামী সরকার পতনের পরেও প্রভাব কমেনি নাছির উদ্দিনের। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র দখল করে এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন কোচিং বাণিজ্য। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সেবা না দিয়ে নিজেস্ব সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করছেন। উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবনে সকালে দিচ্ছেন কোচিং আর রাতে বসাচ্ছেন জুয়ার আসর। যেখানে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন মাদকসেবী ও জুয়াড়িরা আড্ডা দেয় গভীর রাত পর্যন্ত। এছাড়া সরকারী প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যকর্মী হয়ে সাধারণ রোগীদের জিম্মি করে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠিয়ে কমিশন বাণিজ্য করেন নাছির।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে নাছির উদ্দিন নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিচ্ছেন। সরকারী জমির উপর বহুতল ভবনের নিচে দিয়েছেন দোকান। যেটি পরিচালনা করছে তার ছোট ভাই সালাউদ্দিন কালু। অভিযোগ রয়েছে, নাছিরের প্রভাবে ওই দোকানের পশ্চিম পাশ্বের শার্টার বন্ধ করে দিনে-রাতে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা-ইয়াবা সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এর আগে কালুকে মাদকব্যবসার অপরাধে গ্রেফতার করে চাটখিল থানা পুলিশ। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো মাদকব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন কালু।
সরেজমিনে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ফাঁকা পড়ে আছে। কোন সেবা গ্রহীতা নেই। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় নাছির উদ্দিনের রুম। সেখানে টেবিলে পড়ে রয়েছে বিভিন্ন বই-পুস্তক ও শিক্ষার্থীদের পেটানোর লাঠি। যা দেখে সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভেতরে চলমান কোচিং বাণিজ্যের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এছাড়া বেসরকারী ক্লিনিক ও হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে কমিশন বাণিজ্যের বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া গেছে নাছির উদ্দিনের ভিজিটিং কার্ড ও মোবাইলের কলার টিউন থেকে। তার ভিজিটিং কার্ডে চাটখিলের একটি বেসরকারি ক্লিনিকের বিজ্ঞাপন দেওয়া রয়েছে।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন জানান, নাছির আওয়ামী সরকারের আমলে ছিলেন বেপরোয়া। এখন শোনা যাচ্ছে দল পাল্টেছে। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র দখল করে বসতবাড়ি বানিয়ে রেখেছে। সকালে সেখানে স্টুডেন্ট পড়ায় আর রাতে বসে জুয়া-মাদকের আসর। বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে উপজেলায় অভিযোগ দিয়েও সমাধান হয়নি। তাছাড়া দুই ভাই মিলে মাদক ব্যবসা করায় এলাকার কিশোরগ্যাং তার নিয়ন্ত্রণে থাকায় কেউ ভয়ে কিছু বলে না।
মুঠোফোনে কথা হলে নাছির উদ্দিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভেতরে কোচিং এর বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে সেটি অনেক আগে করতেন এবং এখন তিনি কোচিং করেনা না বলে জানান। সরকারি জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে সেটি নিজের পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে দাবি করেছেন। বেসরকারি ক্লিনিকে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন নাছির। তিনি জানান, সরকারি দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করে তিনি বেসরকারি হাসপাতালেও কাজ করেন। এই কাজে তিনি দোষের কিছু দেখেননা বলেও মন্তব্য করেন। এছাড়া কোন রাজনৈতিক দলের সাথে তিনি যুক্ত নন বলে দাবি করেন।