
"নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ‘তোরে প্যালেস’ ধ্বংস; ক্যামেরায় ধরা পড়ল পতনের মুহূর্ত"
আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
ব্রাজিলের ইতিহাসের এক সোনালি অধ্যায়ের অবসান ঘটল। দেশটির প্রথম বিলাসবহুল হোটেল হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী ‘তোরে প্যালেস’ (Torre Palace) এখন কেবলই স্মৃতি। দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত অবস্থা এবং কাঠামোগত ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভবনটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত একটি স্থাপত্যের চিরস্থায়ী সমাপ্তি ঘটলো।
ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় অবস্থিত এই বিশালাকার ভবনটি ধ্বংস করতে বিশেষ কারিগরি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শক্তিশালী বিস্ফোরণের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আকাশচুম্বী ভবনটি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। ভবনটি ধসে পড়ার সময় বিশাল ধুলোর মেঘ তৈরি হয়, যা পুরো এলাকা ঢেকে ফেলে। এই পতনের দৃশ্যটি ড্রোনের মাধ্যমে ধারণ করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হোটেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর দেয়াল ও পিলারে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। এছাড়া ভবনটি অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল। যে কোনো সময় এটি ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা থাকায় জননিরাপত্তার স্বার্থে এটি ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এক সময় তোরে প্যালেস ছিল আভিজাত্য ও আতিথেয়তার কেন্দ্রবিন্দু। দেশি-বিদেশি পর্যটক, রাজনীতিক এবং নামী তারকাদের পদচারণায় মুখর থাকতো এই হোটেল। আধুনিক অবকাঠামো ও নগরায়নের প্রয়োজনে আজ তার বিদায় হলেও, ব্রাজিলের স্থাপত্য ইতিহাসে এর নাম অক্ষয় হয়ে থাকবে।
আরও জানতে চোখ রাখুন পরের পাতায়...