শহিদুল ইসলাম,বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম:
চট্টগ্রাম একনেকে অনুমোদনের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মূল নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কালুরঘাট নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতু নির্মাণকাজ দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে শুরুর দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভারপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মনোয়ারা বেগমের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পেশ করা হয়। চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন ও মহাসচিব আবু তাহের চৌধুরী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আবেদন জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, একাধিকবার সেতুটি নিয়ে সরকারি দপ্তর থেকে আশ্বাসের বাণী শোনানো হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
ফোরাম নেতাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক মতবিনিময় সভায় তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কালুরঘাট সেতুর কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছিলেন। এর পর ২৬ নভেম্বর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মো. গোলাম মোস্তফা গণমাধ্যমে জানান, ২০২৫ সালের মে-জুনের মধ্যে প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ ও ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর ২০২৫ সালের ১৪ মে ভিত্তিপ্রস্তরও উন্মোচন করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, কালুরঘাট নতুন সেতুটি কেবল চট্টগ্রামবাসীর যোগাযোগের বিষয় নয়; এর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর, শিল্পাঞ্চল, পর্যটন নগরী কক্সবাজার এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সুফল পুরোপুরি নেওয়ার বিষয়টিও সম্পর্কিত। প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় সরকারের নির্মাণ ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি দীর্ঘ হচ্ছে জনদুর্ভোগ ও আঞ্চলিক পরিবহন খাতের সংকট।
চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে চার দফা জরুরি দাবি জানানো হয়:
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর চট্টগ্রাম আদালত ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেন, “এই সেতুর দাবি চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের রক্তঘাম ভেজা দাবি। এটি কোনো আঞ্চলিক রাজনীতি নয়, পুরো দেশের অর্থনীতির সংগে এর স্বার্থ জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সরকারের সময়ে আশ্বাস সত্ত্বেও দৃশ্যমান কাজ না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পী শাহরিয়ার খালেদ, যুগ্ম-মহাসচিব মোঃ কামরুল ইসলাম, রাজনীতিক মিতুল দাশ গুপ্ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম একরাম হোসেন, সার্ক মানবাধিকারের বিভাগীয় মহাসচিব জাফর ইকবাল, শিশুসাহিত্যিক তসলিম খাঁ, বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি আক্তার হোসেন নিজামী এবং পরিবেশ কর্মী মাসুদ রানা সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও জানতে চোখ রাখুন...