নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের এক সময়ের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দীর্ঘ আত্মগোপনে থাকা সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ রোববার (১৪ জুন, ২০২৬) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদকে জানান। এ সময় তিনি বলেন, "এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব।"
সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের পুলিশ বাহিনীর অত্যন্ত প্রভাবশালী চরিত্র ছিলেন। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাহিনীর শীর্ষ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ওই বছরের ১৫ই এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নানা ঘটনায় তিনি বারবার দেশ-বিদেশে আলোচনায় এসেছিলেন। ২০২২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর তিনি আইজিপির পদ থেকে অবসরে যান।
অবসরে যাওয়ার বছর দুয়েক পরে ঢাকার একটি পত্রিকায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের খবর প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার একটি আদালত তাঁর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতের আদেশের আলোকে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন 'সাভানা রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্ক'-এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।
দুর্নীতির অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বেনজীর আহমেদ দেশ ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। অবশেষে ইন্টারপোলের সহায়তায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো। তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
আরও জানতে চোখ রাখুন...