ইতিহাসের বিকৃতি: সত্যের অপলাপ ও রাজনৈতিক হীনম্মন্যতা
আমাদের রাজনীতির মঞ্চে সবচেয়ে ভয়ংকর খেলাটি হলো ইতিহাস নিয়ে লুকোচুরি। ক্ষমতার পালাবদলে এখানে সত্যের সংজ্ঞাও বদলে যায়। রিয়াজুল সোহাগ যথার্থই বলেছেন, ইতিহাসের বিকৃতি কেবল সত্যকে আড়াল করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভ্রান্তির অন্ধকার গহ্বরে নিক্ষেপ করে। যখন জাতীয় বীরদের অবমূল্যায়ন করা হয় কিংবা তাদের অবদানকে রাজনৈতিক সংকীর্ণতায় মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়, তখন মূলত আমরা আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে তুলি। সত্যের অপলাপ যখন ক্ষমতার হাতিয়ার হয়, তখন জাতি হিসেবে আমাদের সামগ্রিক নৈতিক পতন ঘটে।
দেশপ্রেমের মুখোশ ও নেতৃত্বের সংকট
আজকের দিনে নেতৃত্বের কোন্দল আর গোষ্ঠীস্বার্থের যে নগ্ন রূপ আমরা দেখছি, তা স্বাধীনতার মূল চেতনার পরিপন্থী। দেশপ্রেমের বুলিতে মুখর নেতাদের চেহারায় যে 'মুখোশ' দেখা যায়, তার ভেতরে লুকায়িত থাকে কেবলই লোভ আর মোহের লালসা। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, ভৌগোলিক সীমানা পেয়েছি, কিন্তু 'প্রকৃত মানুষ' হওয়ার সেই নৈতিক উচ্চতা স্পর্শ করতে ব্যর্থ হয়েছি। নেতৃত্বের এই চরম বিভক্তি আমাদের শেখায়নি কীভাবে গুণীজনকে সম্মান দিতে হয়, কীভাবে প্রকৃত বন্ধু আর মুখোশধারী শত্রুর পার্থক্য করতে হয়।
ইতিহাসের বিচার ও আমাদের করণীয়
একটি প্রবাদ আছে—"ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।" আজ যারা ক্ষমতার দম্ভে ইতিহাসকে বাঁকিয়ে দিচ্ছে বা অবদানের স্বীকৃতি দিতে কুণ্ঠাবোধ করছে, সময় ঠিকই তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, অকৃতজ্ঞতার এই দায়ভার কি চিরকাল আমাদের ললাটে লেপন করা থাকবে?
"এখনো সময় আছে সত্যকে স্বীকার করার, গুণীজনকে সম্মান দেওয়ার এবং মুখোশ খুলে প্রকৃত মানুষ হিসেবে দেশ গড়ার লড়াইয়ে শামিল হওয়ার।"
পরিশেষে বলা যায়, একটি জাতি হিসেবে যদি আমরা সত্যকে আলিঙ্গন করতে না পারি, তবে আমাদের সব অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। রাজনীতির কালিমা যেন ইতিহাসের ধ্রুবতারকাদের ম্লান করতে না পারে। আসুন, সংকীর্ণতা ও ব্যক্তিগত লোভ বিসর্জন দিয়ে আমরা সেই উদার মানসিকতা অর্জন করি, যেখানে দেশপ্রেম কেবল মুখে নয়, বরং অন্তরে ও কর্মে প্রতিফলিত হয়। ইতিহাসের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো সত্যের চর্চা এবং বীরদের যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান।
আরও জানতে চোখ রাখুন...
লেখা