
রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় হাজারো চাকরিপ্রার্থী;
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম|
চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (চট্টগ্রাম ওয়াসা) নিয়োগ কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক গাফিলতি ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় আড়াই বছর আগে অনুষ্ঠিত একটি নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না করেই একই ধরনের পদে আবার নতুন করে পরীক্ষা আয়োজন করেছে সংস্থাটি। এতে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় অর্থের বড় অঙ্কের অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে তেমনি হাজারো চাকরিপ্রার্থী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
২০২৩ সালের পরীক্ষার ফল আজও অধরা
ওয়াসা সূত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ওয়াসা ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা নেয়। পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক প্রার্থী অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী কয়েক মাসের মধ্যেই ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৪ ও ২০২৫ সাল পেরিয়ে ২০২৬ সাল শুরু হলেও সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়নি।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—
🔹 ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে—এমন কোনো সরকারি নোটিশ নেই
🔹 প্রক্রিয়া স্থগিত বা স্থায়ীভাবে বন্ধ—এমন ঘোষণাও পাওয়া যায়নি
🔹 ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে কোনো লিখিত বক্তব্যও দেয়নি কর্তৃপক্ষ ফলে আগের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
বাতিল ছাড়াই নতুন করে আবার পরীক্ষা
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই চট্টগ্রাম ওয়াসা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একই ধরনের পদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। শনিবার নতুন করে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় অংশ নেন ৯ হাজার ৪০৮ জন চাকরিপ্রার্থী।
চাকরিপ্রার্থীদের প্রশ্ন—
আগের পরীক্ষার ফল যদি বৈধ থাকে, তবে নতুন করে আবার পরীক্ষা কেন? আর যদি আগের পরীক্ষা বাতিল হয়ে থাকে, তাহলে তার কোনো ঘোষণা নেই কেন?
৬৫ লাখ টাকার অতিরিক্ত ব্যয়
ওয়াসা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে পরীক্ষা আয়োজন করতে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক আনুষঙ্গিক খাতে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, আগের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করলেই এই ব্যয় পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব ছিল।
চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ ও হতাশা আগের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক চাকরিপ্রার্থী বলেন,“আমরা আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছি। ফল নেই, ব্যাখ্যা নেই। এখন আবার নতুন পরীক্ষায় বসতে বলা হচ্ছে। আমাদের সময়, শ্রম আর মানসিক চাপের দায় কে নেবে?”
আরেক প্রার্থী জানান,
“এই দেরির কারণে অনেকেই বয়সসীমা পার করে ফেলেছেন। তারা এখন আর কোনো সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন না।”
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
নিয়োগ বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল বা আইনি নিষ্পত্তি না করেই একই পদে পুনরায় পরীক্ষা আয়োজন করা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী। এতে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের নীরবতা রহস্য বাড়াচ্ছে
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের এই নীরবতা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
আইনি জটিলতা ও জনআস্থার সংকটের আশঙ্কা
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আগের নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ অথবা প্রক্রিয়া বাতিলের বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না জানালে চট্টগ্রাম ওয়াসার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও জনআস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
আরও জানতে চোখ রাখুন...