
নোযাখালী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাঠপট্টি মেহেদী রোডে চরম দুর্ভোগ, বন্ধ যানবাহন চলাচল
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
পৌর এলাকার সোনাপুর ৮ নং ওয়ার্ডের কাঠপট্টি মেহেদী রোডটি এখন আর রাস্তা নেই, পরিণত হয়েছে এক চরম মরণফাঁদে। খালের পাশের মাটি সরে গিয়ে ঢালাই করা পাকা সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ ভেঙে খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে সড়কটি এখন পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
খালের দিকে হেলে পড়েছে ঢালাই ব্লক
সরেজমিনে সোনাপুর ৮ নং ওয়ার্ডের কাঠপট্টি মেহেদী রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক করুণ চিত্র। খালের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আরসিসি ঢালাইয়ের রাস্তাটির নিচের মাটি ধসে গেছে। মাটির ঠেস না থাকায় রাস্তার ঠিক মাঝখান দিয়ে আড়াআড়িভাবে বিশাল ফাটল ধরেছে। সড়কটির প্রায় অর্ধেক অংশ ভেঙে খালের নোংরা পানিতে হেলে পড়েছে। সামান্য অসাবধানতায় যেকোনো পথচারী সরাসরি খালে গিয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে বর্তমানে এই সড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকেরা
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। সড়কটি অকেজো হয়ে পড়ায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা ঢালাইয়ের ওপর দিয়েই পার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
স্থানীয় এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন—
"প্রতিদিন বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে বুক দুরুদুরু করে। রাস্তা যেভাবে ভেঙে খালের দিকে ঝুলে আছে, কখন যে পা পিছলে খালে পড়ে যায় সেই ভয়ে থাকি। একটু বৃষ্টি হলে তো আর কথাই নেই, কাদা আর ভাঙা রাস্তায় পা ফেলার জায়গা থাকে না।"
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ব্যাহত জরুরি চিকিৎসা
সড়কটির এই বেহাল দশার কারণে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। এলাকায় কোনো রিকশা, ইজিবাইক বা ভ্যান গাড়ি ঢুকতে পারছে না। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন গুরুতর অসুস্থ রোগীরা। কোনো জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার পথ নেই। বাধ্য হয়ে রোগীকে কাঁধে কিংবা খাটিয়ায় করে মূল সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এছাড়া পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
গাইড ওয়াল ও দ্রুত সংস্কারের দাবি
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালের পাশে শক্ত কোনো প্রতিরোধক দেয়াল বা গাইড ওয়াল না থাকার কারণেই বারবার মাটি সরে গিয়ে রাস্তাটি এভাবে ধসে পড়ছে। বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও মেলেনি কোনো প্রতিকার।
ভুক্তভোগী জনগণের দাবি— আর কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন খালের পাশে শক্তিশালী রিটেইনিং ওয়াল বা গাইড ওয়াল নির্মাণ করে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা হয়। এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে নোয়াখালী সদর পৌরসভার মেয়র ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সোনাপুর ৮ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষ।
আরও জানতে চোখ রাখুন...